রবিবার, মার্চ ৩, ২০ ২৪
স্টাফ রিপোর্ট::
১০ ফেব্রুয়ারী ২০ ২৪
৫:১৪ অপরাহ্ণ

আবুল হাসান হত্যা মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দাবি

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আবুল হাসান হত্যার সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নিহতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মোমিনখলা গ্রামের মো. আউয়াল মিয়ার পুত্র মো. আবু সাঈদ।

লিখিত বক্তব্যে সাঈদ বলেন, কায়েস্থরাইল গ্রামের জিহাদুর রহমান মিঠুর পুত্র, ২৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আবু দারদা জিহাদ তামি ও তার ভাই আবু দাউদ জিহাদ জামী এবং তাদের সহযোগীরা আবুল হাসানকে পৈশাচিক কায়দায় কুপিয়ে আশংকাজনক অবস্থায় ফেলে যায়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ৭দিনের মাথায় সে মৃত্যুবরণ করে।

এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করেনি। তিনি বলেন, তার ছোট ভাই আবুল হাসান (২৪) লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল। তার উপার্জনের টাকা দিয়ে ছোট তিন বোনের লেখাপড়া চলতো। এখন তাদের লেখাপড়া চালিয়ে নেয়া অসম্ভব হয়ে দাাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, গত ২০ জানুয়ারি রাতে মোমিনখলাস্থ জামেয়া দারুল হুদা মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে আবুল হাসানসহ তার সঙ্গীয়রা সেখানে গেলে তামি ও জামীর সঙ্গে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান হলেও ২৪ জানুয়ারি এলাকার ছোট ভাই সানিকে একা পেয়ে তামি ও জামী এবং তাদের সহযোগীরা সানিকে চড় থাপ্পর মারে। এ ঘটনা জানার পর তাঁর ভাই তামি ও জামীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বিষয়টি সমাধান করে দিবে বলে তাকে জানায়। ২৫ জানুয়ারি এ বিষয়টি সমাধানের কথা বলে মোমিনখলাস্থ শাহজালাল এন্টারপ্রাইজ নামক দোকানের সামনে তাকে খবর দিয়ে নেয়া হয়।

এ সময় তাঁর ভাইয়ের সাথে জাবের আহমদ, সায়েক আহমদ, সানিও ছিল। সেখানে তারা পৌছামাত্রই আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তামি, জামী ও তাদের সহযোগীরা দেশিয় অস্ত্র দা, লাঠি ও লোহার রড নিয়ে ছোট ভাই আবুল হাসান ও তার সঙ্গীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় আবুল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তামি ও জামী দা দিয়ে আমার ভাইয়ের মাথায় কুপাতে থাকে।

আবুল হাত দিয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করলে তার হাত ও উরুতেও দায়ের কুপ পড়ে। এ সময় অন্যান্য সন্ত্রাসীরাও আবুলের ওপর অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। এতে তার পুরো শরীরই মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে আবুল জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তাঁর সঙ্গীয় জাবের, সায়েক, সানিও তাদের হামলায় মারাত্মক জখম হয়। তাদের শোরচিৎকারে পথচারি ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

আশপাশের লোকজন আবুল ও তার সঙ্গীদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে আবুল হাসানের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিউ বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। জাবের আহমদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়।

আবু সাইদ জানান, এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে আবু দারদা জিহাদ তামি তার ভাই আবু দাউদ জিহাদ জামী, তাদের সহযোগী মুছারগাঁও গ্রামের মরম আলীর পুত্র জামিল, কায়েস্থরাইল গ্রামের শফিক মিয়ার পুত্র ফাহিম, একই গ্রামের টিটু মিয়ার পুত্র মাহদী, মুছারগাঁও গ্রামের জাকির হোসেনের পুত্র সিয়াম, বারখরা গ্রামের লিয়াকত আলীর টিপুল, ভার্থখলার রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র আবুল কালাম রিপন, বারখলা গ্রামের হামদু মিয়ার পুত্র ফাহমিদ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে গত ২৬ জানুয়ারি দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরে আমরা জানতে পারি মুছারগাঁও গ্রামের ইরন মিয়ার পুত্র অপু, এইক গ্রামের আল আমিন সামী ও তার ভাই তায়েফও এ সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত ছিল। সবাদ সম্মেলনে সাঈদ বলেন, তাঁর ভাই ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করে। তিনি বলেন, আমার ভাই আহত অবস্থায় অথবা মৃত্যুর পরও তাকে একবারের জন্য দেখতে আসেননি স্থানীয় কাউন্সিলর।

যা আমাদের জন্য পীড়াদায়ক। এদিকে মামলা দায়েরের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের আশংকা হয়তো কোনো প্রভাবশালী মহলের ইশারায় আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ন্যায় বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাসানের পিতা মো. আউয়াল মিয়া, মাতা মোছা. সাফিয়া বেগম, বোন মোছা. সানজিদা ও মোছা. মনোয়ারা এবং আহত জাবেদের পিতা মো. মুহিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ