রবিবার, মার্চ ৩, ২০ ২৪
স্টাফ রিপোর্ট::
১১ ফেব্রুয়ারী ২০ ২৪
৫:৩৬ অপরাহ্ণ

সিলেটে ২৫ চা বাগান কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলন
উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও চায়ের নিলামমূল্য তারচেয়েও বেশি মাত্রায় কমেছে

চা উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বাড়লেও চায়ের নিলামমূল্য তারচেয়েওে বেশি মাত্রায় কমেছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ২৫টি চা বাগান কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে চা শিল্পের সংকটময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে উল্লেখ করে তারা জানিয়েছেন এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চা বাগানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে।

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য দেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুফতি মো. হাসান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চা শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন শিল্প। ঐতিহ্যগতভাবে চা শিল্প একটি রপ্তানিমুখর শিল্প হিসেবে আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। যদিও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে রপ্তানি খুবই কমেছে তদুপরি চা শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

দেশীয় উৎপাদন ব্যতিরেকে চা আমদানি করতে অনেক বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হতো। চা শিল্পের উপর কয়েক লক্ষ শ্রমিক, কর্মচারীর জীবন জীবিকা নির্ভরশীল। পরোক্ষভাবে আরো কয়েক লক্ষ লোক চা শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে চা শিল্প কঠিনতম পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত যা এই শিল্পের টিকে থাকার ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অন্যান্য শিল্পের উৎপাদিত পন্যের তুলনায় চা নিলাম মূল্য উৎপাদন মূল্যের চেয়েও কম। বাগানের ব্যবহৃত রোগবালাই দমনে ঔষধ, সার এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে কিন্তু নিলামমূল্য তারচেয়েও বেশি মাত্রায় কমেছে। ভালো মানের চা ২২০ টাকা ও তদূর্ধ্ব দামে বিক্রি হচ্ছিল যা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। বর্তমানে নিলামমূল্য ১৭০ টাকা - ১৭৫ টাকা থেকে নেমে ১০০ টাকা – ১১০ টাকায় এসেছে।

এমনকি ১০০ টাকার নীচেও নিলামে বিক্রি হচ্ছে। চায়ের এই নিলামমূল্য দিয়ে লাভের প্রশ্নই উঠে না, উৎপাদন খরচ বহন করাই কোনভাবে সম্ভব নয়। সংবাদ সম্মেলনে চা শিল্পের এই সংকটের জন্য কয়েকটি কারন চিহ্নিত করেন মালিক ও কর্মকর্তারা। সেগুলো হলো- দেশের বাইরে থেকে খুবই নি¤œমানের চা চোরাচালান (স্মাগলিং) এর মাধ্যমে দেশে আসা, সকল নিয়ম বিবর্জিত পদ্ধতিতে পঞ্চগড় এলাকায় খুবই নি¤œমানের চা উৎপাদন।

আইন, বিধি নিষেধ অমান্য করে পঞ্চগড় এলাকায় সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে চা বিক্রয়, মজুরী, তেল, রেশন, ঔষধ (এগ্রো ক্যামিকেল) ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, কয়েকটি বড় প্যাকেটিয়ার দ্বারা নিলাম বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধের উচ্চ হার। তাই এসব সমস্যার তড়িৎ সমাধান না হলে অনেক বাগান বন্ধ হয়ে যাবে এবং চা শিল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এছাড়া দেশি বিদেশি বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বিফলে যাবে। পাট, টেক্সটাইল শিল্পের ন্যায় চা শিল্প যাবে। ১৮ কোটি মানুষের সবচেয়ে প্রিয় পানীয়- সাধারন, মধ্যবিত্ত, নি¤œবিত্ত লোকের জন্য দুষ্প্রাপ্য হবে।

এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষে কয়েকটি পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরা হয় সংবাদ সম্মেলনে। সেগুলো হলো- কেজি প্রতি চায়ের নি¤œতম মূল্য ৩৫০-৪০০ টাকা নির্ধারণ করা, ভালো মানের চা নিলামে বিডিং এর মাধ্যমে বেশি দর পেতে পারে, দেশের বাইরে থেকে চোরাই পথে চা আসা বন্ধ করতে হবে, পঞ্চগড় এলাকায় চা উৎপাদনের মান এবং আইন ও বিধিসম্মতভাবে চা বাজারজাত করার বা হবে, ছোট কোম্পানী/বাগানকে প্যাকেজিং এর জন্য আর্থিক সাহায্য/সহায়তা দিতে হবে যাতে কল কোম্পানীগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে, প্যাকেজিং এর নি¤œতম পরিমাণ বর্তমানে ২৫% থেকে ৫০% করতে হবে, ভাল প্যাকেটজাত চা বা টি ব্যাগ রপ্তানি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, চা বাগানকে বহুমুখী আয়ের উৎস সৃষ্টি কল্পে চা পযর্টন স্থাপনের সুযোগ দিতে হবে, কৃষি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধের হার কমাতে হবে ও শর্তাবলী সহজ করতে হবে, বি. কে. বি. ঋন পরিশোধ করার শিডিউল রি-স্ট্রাকচার করার সুযোগ থাকতে হবে, রুগ্ন, ছোট বা যেসব ছোট বাগানের উৎপাদন কম সেসব বাগানকে ০৫ বছরের জন্য ট্যান্ড তাদের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ দিতে হবে এবং বাগানগুলোতে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আইন রক্ষাকারী বাহিনীর তড়িৎ ব্যবস্থা ও নিতে হবে, বিশেষ করে বাগানের জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন মো. খসরুজ্জামান, শফিকুল বারী, সৈয়দ মহিউদ্দিন, সাহেদ আব্দুল্লাহ চৌধুরী, নোমান হায়দার চৌধুরী, আজম আলী, রুকন উদ্দিন খান, সজল সোসেক গমেজ প্রমুখ।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ