শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০ ২১
বিপ্লব রায়, শাল্লা::
২৬ জানুয়ারী ২০ ২১
১২:২৩ অপরাহ্ণ

ঘর পেয়ে খুশি সাদিকা
শাল্লায় ভূমিহীন ও গৃহহীনের তালিকা স্বচ্ছ

বিপ্লব রায়, শাল্লা:: খড়ের ছাউনি আর বাশের খুপরির নিচেই ছিল বসবাস। বৃষ্টির জল ও রৌদ্রের তাপের মধ্যেই কেটেছে ২৪টি বছর। তাও ছিল আবার অন্যের জায়গা। অসহায় ও দারিদ্রতার কারনেই দুবেলা দুমুটো ভাত জুটতো না কপালে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর নিজের নামে তিনিই কিনা পেলেন জমির দলিল ও ঘরের কাগজ! তাই উচ্ছ্বাস যেন কমছে না আফাই মিয়ার স্ত্রী সাদেকা বিবির।

বাড়ি শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামে। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আনন্দের কথা জানিয়ে বললেন, আধা পাকা ঘরটি তাঁর খুব পছন্দ হয়েছে। থাকার কক্ষের সঙ্গে রান্নাঘর। পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থাও ভালো। প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার পেয়ে আনন্দে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন উপজেলার চিকাডুবি গ্রামের জামিনা বেগম ও সফিনা বিবি । তারা বলেন প্রধানমন্ত্রীর এমন উপহার পেয়ে স্বামী সন্তান নিয়ে এখন নিরাপদে আছেন।

পাশাপাশি তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদেরকেও ধন্যবাদ জানান। কারন তারা নিরলসভাবে কাজ করে ভূমিহীন গরীব অসহায়দেরকে চিহ্নিত করে তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে এসব ঘর প্রদান করেছেন। বাহাড়া ইউনিয়নেরর বাহাড়া গ্রামের সুমিত্রা রানী দাস। তিনি ৩ মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে অসহায়ত্ব জবিন যাপন করছিলেন। খেয়া পাড়া পাড়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে চলতো তাঁর সংসার। তিনিও পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া সেই ঘরটি।

উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বীরেন্দ্র দাস। তিনিও ছিলেন একজন ভূমিহীন ব্যাক্তি। নিজের জায়গা জমি না থাকায় আগে থেকেই সরকারি খাস জায়গায় ছোট একটি খুপরি ঘর নির্মাণ করে বসবাস করতেন। এই দৃশ্যটি নজরে আসে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মোক্তাদির হোসেনের। তিনি নিজেই বীরেন্দ্র দাসের বাড়িতে গিয়ে ২ শতক জায়গা ও আধা পাকা ঘরের তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দিনরাত পরিশ্রম করে চলছেন উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সাদেকা, জামিনা, সফিনা, সুমিত্রা ও বীরেন্দ্র দাসের মতোই সারা উপজেলার ১৫৮১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আধা পাকা ঘর দেয়ার তালিকা করেছেন উপজেলা প্রশাসন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শনিবার সকালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। এই উপলক্ষে শাল্লা উপজেলার ৪০টি ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবার হাতে জমির দলিল ও ঘরের কাগজপত্র তুলে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

এছাড়াও তালিকার অন্যান্যদের বাড়িতে মালামাল পৌছে গিয়েছে। তবে অচিরেই অন্যান্য সুবিধাভোগীদের হাতে দলিল ও ঘরের কাগজ পত্র তুলে দেয়া হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, শাল্লা একটি ভাটি অঞ্চল। এই অঞ্চলে দারিদ্রতার সংখ্যাও বেশি। তবে পশ্চাৎপদ এলাকা হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ভূমিহীন গৃহহীনদের মাঝে ঘরের তালিকা স্বচ্ছ হয়েছে।

এখানে অসহায় দারিদ্রতা দেখে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঘর দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মোক্তাদির হোসেন বলেন, তালিকা প্রনয়নের আগে বার বার যাচাই বাছাই করে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের চিহ্নিত করেই তালিকা করা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটা ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে সকল সুবিধাভোগীদের বাড়িতে মালামাল পাঠানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে অতি শীঘ্রই ঘরের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ