সোমবার, জুলাই ২২, ২০ ২৪
মো.শাহজাহান মিয়া,জগন্নাথপুর::
৩১ মে ২০ ২৩
৬:৪২ অপরাহ্ণ

জগন্নাথপুর মাছের দেশে মাছের আকাল, অল্প পেলেও দাম আকাশ ছোয়া

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাটি স্থানীয় ভাবে মাছের ভান্ডার বা মাছের দেশ হিসেবে পরিচিত। খাল-বিল-নদী-নালা ও হাওর বেষ্টিত উপজেলা হচ্ছে জগন্নাথপুর। যে কারণে সারা বছরই কমবেশি দেশীয় মাছ পাওয়া যায়। তবে এবার সেই মাছের দেশেই মাছের আকাল পড়েছে।

কোথাও যেন মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে-মধ্যে মাছ পাওয়া গেলেও দাম থাকে আকাশ ছোয়া। ধনীরা মাছ কিনতে পারলেও গরীবরা মাছের জন্য হাহাকার করছেন। যদিও মাছের আকাল রোধে মা মাছ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত আছে। জানাগেছে, জগন্নাথপুর উপজেলাটি দেশীয় মাছ ভান্ডার বা মাছের দেশ হিসেবে পরিচিত। যুগযুগ ধরে জগন্নাথপুর উপজেলার খাল-বিল, নদী-নালা হাওরে পাওয়া মাছে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী হয়ে থাকে।

এবার বৈশাখ শেষ হয়ে জ্যৈষ্ঠ মাস চলে যাচ্ছে। এর মধ্যে বর্ষার পানি আসেনি। উপজেলার বড়-বড় নদীতে পানি থাকলেও এখন খাল-বিল ও হাওরে পর্যাপ্ত পানি নেই। পানি সংকটের কারণে মা-মাছ ডিম ছাড়তে পারেনি। ফলে মাছের আকাল চলছে। ৩১ মে বুধবার জগন্নাথপুর সদর বাজার সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অল্প কিছু মাছ নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের তুলনায় মাছ অনেক কম। তার উপর দাম হাঁকাচ্ছেন আকাশ ছোয়া।

এ সময় বাজারে মাছ কিনতে আসা জমশেদ মিয়া, সিপন মিয়া, মুকুল কর, আবদুস সোবহান, রাহিম আলী সহ অনেকে বলেন, কত দিনের মাঝে মাছ খাইনি ভূলে গেছি। মাছ খাওয়ার জন্য বাচ্চারা কান্নাকাটি করে। অনেক আশা নিয়ে বাজারে মাছ কিনতে আসলেও সাহস পাচ্ছি না। বাজারে এখন পাবদা, শোল, গজার, শিং, মাগুর, কৈ, পুটি, চিংড়ি, টেংরা সহ দেশীয় মাছ নেই বললে চলে। ভাগ্যক্রমে পাওয়া গেলেও দাম হচ্ছে আকাশ ছোয়া। যা কেনার সামর্থ আমাদের নেই।

শুধু ধনী ব্যক্তিরা অনেক দাম দিয়ে চোঁখের সামনে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও পাঙ্গাস, সরপুটি, তেলাপিয়া, কার্পো, জাটকা সহ কিছু ফিসারিজ মাছ পাওয়া যায়। এসব মাছের দামও এখন অনেক বেশি। যা আমরা কখনোই কিনতাম না। এখন অনেকটা বাধ্য হয়ে এসব মাছ কিনতে হচ্ছে। এদিকে-গোপী দাস, জলিল মিয়া, নুপেশ গোপ সহ মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেকে বলেন, এখন কোথাও দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প মাছ পেলেও অনেক দাম দিয়ে কিনতে হয়।

যে কারণে দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। সুশাংক দাস, হরি দাস, নবীন দাস সহ কয়েকজন মৎস্যজীবি জানান, এবার এখনো পানি না আসায় খাল-বিল ও হাওর সহ কোথাও মাছ ধরতে পারছি না। অন্য বছর এ সময়ে জাল দিয়ে মাছ ধরে ভালো ভাবে সংসার চলেছে। এবার মাছ মারতে না পারায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। জগন্নাথপুর মৎস্য আড়ত সমিতির সভাপতি আফছর উদ্দিন ভূইয়া জানান, অন্য বছর এ সময়ে আড়ত ভর্তি থাকতো দেশীয় মাছে।

এবার পানি না থাকায় দেশীয় মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারণে ফিসারির মাছ দিয়ে কোন রকমে চলছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামান বলেন, জগন্নাথপুরে এবার এখনো বর্ষার পানি আসেনি। যে কারণে মাছের আকাল পড়েছে। তবে এ আকাল বেশি দিন থাকবে না। হাওর ও খাল-বিলে পানি না থাকলেও নদীতে পানি আছে।

নদীতে থাকা ডিমওয়ালা মা মাছ রক্ষায় আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এর মধ্যে বর্ষার পানি আসলেই সর্বত্র মা মাছ ডিম ছাড়তে শুরু করবে। তখন পোনামাছ নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে জেলেরা। ফলে মাছের আকাল সৃষ্টি হয়। তবে এবার পোনামাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। যে কোন মূল্যে পোনামাছ রক্ষা করতে হবে। তা হলেই আবারো দেশীয় মাছে সয়লাব হয়ে যাবে জগন্নাথপুর উপজেলা।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ