শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০ ২২
ফয়সাল আমীন/আব্দুস সালাম /আব্দুল জলিল::
২০ নভেম্বর ২০ ২২
৫:৪৭ অপরাহ্ণ

# জনগনের আদালতে বিচার হবে সরকারের # কেয়ািরটেকার ছাড়া নির্বাচন নয় # পথে পথে পুলিশ বাধার অভিযোগ # কাটাছেঁড়া সংবিধান আমরা মানি না
আমলা-পুলিশ-গোয়েন্দা দিয়ে রাতের অন্ধকারে পাল্টাতে পারবা না-সিলেটে মির্জা ফখরুল
মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দফা এক দাবী এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সবাই ঐক্যবব্ধ হয়ে বর্তমান স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। , আমাদের শ্লোগান এখন একটাই, ‘ট্র্যাক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যায়-অত্যাচার আর সহ্য করবো না। এ সরকারের হাতে দেশ, গণতন্ত্র কোনোটাই নিরাপদ নয়। আমরা চাই এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ। এরপর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। তারা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। তাদের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট-দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে। যারা আমাদের সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাদের পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং এই সংসদ থাকবে না, আর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠন করতে হবে। ঝাড়ি-ঝুড়ি থাকেব না, আমলা, পুলিশ-গোয়েন্দা দিয়ে রাতের অন্ধকারে পাল্টাতে পারবা না। ইভিএম করবা- ওটা হবে না...। জনগন তার ভোট এবার দেখে নেবে। কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবে। জনগনের ভোটে সরকার প্রতিষ্ট হবে। এ সরকার মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে। তাদের বিচার এ দেশের জনগণ করবে। জনগণের আদালতে তাদের বিচার হবে।’ গতকাল শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে সিলেটে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী, সিসিক কাউন্সিলর কয়েছ লোদী, কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীমের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মহা সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আব্দুল মঈন খাঁন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল আরও বলেন- ‘ভোলায় আব্দুর রহিম, নূরে আলম নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান এবং মুন্সীগঞ্জে শাওনকে এই সরকারের পুলিশ এবং গুন্ডাবাহিনী হত্যা করেছে। তারা মনে করছে আগের মতো হত্যা করলে সবকিছু থেমে থাকবে, কিন্তু থেমে থাকেনি উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে। অনুপ্রাণিত হয়েছে এবং একটার পর একটা বিভাগীয় সমাবেশ বেশি জনসমাগমের মাধ্যমে সফল হচ্ছে।’ তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের দুর থেকে নৌকা বেয়ে হাওর-বাওর হয়ে সুরমা নদী দিয়ে সমাবেশস্থলে আপনারা এসেছেন, কেউ আটকাতে পারেনি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আপনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আপনাদের নেতা তারেক রহমান যিনি আজ নির্বাসিত আছেন, আপনাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনিও। এবার ডাক দিয়েছেন তিনি, আমরা যেন উঠে দাড়াই, দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করি। এই ভয়াবহ জালিমের হাত থেকে। আমরা বার বার করে বলছি দেশের শান্তি চাই আমরা। কোন অশান্তি চাই না, দফা এক দাবী এক শেখ এই সরকারের পদত্যাগ। সংবিধান প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন- ‘প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের দোহাই দিয়ে যাচ্ছেন। কোন সেই সংবিধান। যে সংবিধান তুমি ১০ বার কাঁটা ছেড়া করেছো, যে সংবিধান তুমি নিজে তৈরী করেছো,বিচার বিভাগকে পকেটস্থ করে, পেটুয়া বিচারকদের দিয়ে তত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিধান বাতিল করে দিলীয় সরকারের অধিনে নির্বাচনের নির্বাচন ব্যবস্থা করেছো। তা মানি না আমরা। নির্বাচন হতে নিরেপক্ষ সরকারের অধীনে। কোনো সরকারের অধীনে নয়। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবো।’ তিনি বলেন- আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ফ্যাসিস্ট-দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে। যারা আমাদের সমস্ত স্বপ্নগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, অর্জনগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে, তাদের পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেন- ‘আমরা পরিষ্কার করে বলেছি- অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং এই সংসদ থাকবে না, আর মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠন করতে হবে। ঝাড়ি-ঝুড়ি থাকেব না, আমলা, পুলিশ-গোয়েন্দা দিয়ে রাতের অন্ধকারে পাল্টাতে পারবা না। ইভিএম করবা- ওটা হবে না...। জনগন তার ভোট এবার দেখে নেবে। কড়ায় গন্ডায় বুঝে নেবে। জনগনের ভোটে সরকার প্রতিষ্ট হবে। তিনি আরও বলেন- ‘দেশের মানুষ এখন শান্তিতে নেই। প্রতিদিনই নিত্যেপণ্যের দাম বাড়ছে। চালের দাম বৃদ্ধি হয়েছে। গতকাল তেলে দাম আবার বেড়েছে, চিনির দাম বেড়েছে, শাক-সবজি লবন ডিম সব কিছুর দাম বাড়ছে। আমর সেই কৃষক ভাই, তার ছেলেকে একটা ডিম দিতে পারে না। ১০ টাকা কেজি চাউল খেতে বলেছিল এই সরকার, এখন চালের দাম ৭০ টাকা। ৮০ টাকা। এই যে ভয়াবহ এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে শেখ হাসিনা। তিন কোটি মানুষ বেকার। প্রত্যকাটি যুবক নতুন ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন দেখে। চাকুরী করবে ব্যবসা করবে, বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে খাবার দিবেম কিন্তু এই হাসিনা সরকার তাদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে এই দেশে অত্যাচারের ষ্টিম রোলার চালিয়ে শেখ হাসিনা এবং তার সরকার বাংলাদেশকে একটা তলাবিহীন ঝুড়িতে আবার পরিণত করেছে। তিনি সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন- ‘সিলেটের ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। এখান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই সিলেটের কর্নেল এমএজি আতাউল গনী ওসমানী। ৭১-এর ডিসেম্বরে এ সিলেটকে মুক্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’ কিন্তু সিলেটের যুদ্ধ থেমে থাকে নাই। তারপরও যুদ্ধ করে চলছে। আপনাদের নেতা সাইফুর রহমান, তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিককে মুক্ত করার জন্য, আরেক নতুন যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। আজকের যে আধুনিক আধুনিক বাংলাদেশ, তার অর্থনীতিক ভিত্তি তিনি গড়ে ছিলেন। তিনি আপনাদের মানুষ। আরেক পরিচয় আপনাদের আছে, আপনাদের গর্ভের কথা। আপনাদের দামান্দ, আপনাদের জামাই। আমাদের নেতা তারেক রহমান। তিনি এখন আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এই গণতন্ত্রের যুদ্ধে। সুতরাং আপনাদের ইতিহাস অতি গর্বের ইতিহাস। আপনাদের ইতিহাস যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস। ওই জন্য আজকে বললাম, সে যুদ্ধ আজকে সিলেটের পূণ্যভুমি থেকে শুরু হলো। এ যুদ্ধে অবশ্যই জয়লাভ করবো আমরা। মির্জা ফখরুল বিগত জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রশ্নে তুলে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার কি নির্বাচিত সরকার। আওয়ামীলীগ সরকার কি জনগনের ভোটে নির্বাচিত ? ভোট হয়েছিল কি ২০১৪ সালে ? তিনি বলেন হয়নি। তখন শফিউল আলম প্রধান বলেছিলেন, ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রগুলোতে কুকুর শুয়েছিল, তাই সেই নির্বাচন ছিল ‘কুত্তা মার্কা’ নির্বাচন। ২০১৮ সালে আগের দিন রাতেই ভোট শেষ। তারপর বলে আমরা ভোটে জিতেছি। এই সরকারের বিচার হবে, জনতার আদালতে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে ম্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য, গণতান্ত্রিক এক রাষ্ট্র নির্মানের জন্য, মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, কথা বলার স্বাধীনতার জন্য, সেই অধিকারগুলোকে হরণ করার জন্য, চুরি-ডাকাতি করার জন্য, মানুষের স্বপ্নকে ভেংগে চুরমার করা জন্য জনতার আদালতে বিচার হবে হাসিনা সরকারের। তিনি বলেন, বিচার ছাড়া হবে না, কারন আমরা যুদ্ধ করেছি ১৯৯৭ সালে, লড়াই করেছি, ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯০ সাল। বেগম জিয়ার নেতৃত্ব সংগ্রাম করে গণতন্ত্র ছিনিয়ে এনেছিলামি আমরা। মঞ্চে একটি চেয়ার আছে খালি, সেখানে চেয়ারে কার ছবি আছে. ম্যাডামের ছবি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি আছে। এই সেই মহিয়সী নারী, যিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পরে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা সার্বভৌমক্তের পতাকাকে তুলে নিয়েছিলেন। এই পতাকা আমাদেরকে শহীদ প্রেসিডেনন্ট জিয়াউর দিয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার পতাকা, সার্বভৌমক্তের পতাকা আর গনতন্ত্রের পতাকা। সেই পতাকা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন লড়াই করেছেন ছাত্রজনতাকে নিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারে পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন তিনি। খুন-গুম প্রসেঙ্গ মির্জা ফখরুল বলেন- এই মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বসেছিলেন, তার পাশে বসেছিল আপনাদের প্রিয় নেতা ইলিয়াস আলী সেই ২০১১ সালে। সেই ইলিয়াস আলী এখন আমাদের মাঝে নেই। আমরা জানি না সে বেঁচে আছে, না বেঁচে নেই। তার মেয়েটার তখন ৬ বছর বয়স ছিল, সে প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে তাকে তার বাবা কখন ফিরে আসবে। ইলিয়াস আলী ফিওে আসে না। আমি সাবাশ দেই, আমাদের এই লুনা ভাবীকে, ইলিয়াস আলীর সহধর্মীনিকে কে হৃদয়ে ধারন করে তিনি হেরে যাননি, দমে যাননি। তিনি জনগনকে সাথে এই লড়াই, এই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে আমার স্যালুট। ড্রাইবার আনসরা আলী, দিনার, জুনাইয়েদ, ঢাকার সুমন ইমন সব নিখোঁজ হয়ে গেছে। তাদের মা-বাবা স্ত্রী পূত্র কেউ জানে না তারা কোথায় আছে। তাদের ছোট বাচ্চা কোলে ছিল, এখন বড় হয়েছে, প্রশ্ন করে আমার বাবাকে দেখতে চাই। তার আঙ্গুল ধরে স্কুলে যেতে চাই। তার সাথে নতুন জামা পড়ে ঈদের মাঠে নামাজ পড়তে যাই। হাসিনা সরকার আমাদের সে অধিকার কেড়ে নিয়েছে। শত সহ¯্র মানুষকে তারা হত্যা করেছে নির্মম ভাবে। এই সেদিন সিলেট শহরে কামালকে হত্যা করা হয়েছে, এখানে হবিগঞ্জে লাখাইতে ছাত্রলীগ-যুবলীগ-পুলিশ হামলা গুলি চালিয়ে আহত করেছে গউছের সমস্ত লোকদের। সরকারের নতুন খেলা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সারা বাংলাদেশ অসংখ্য নেতাকর্মীকে তারা গুলি করছে, খুন হত্যা করছে নির্যাতন করছে। আবার নতুন করে সেই খেলা শুরু করেছে, কোন খেলা হামলা-মামলা খেলা। গায়েবী মামলা, কোন কিছ’ ঘটেনা হঠাৎ বলে নাশকতা হয়েছে। সেই নাশকতা মামলার আসামী ১১৪/২১৪/ ৪০০/ সাড়ে ৪শত। জানি না কিছু হইছে কি না ? এভাবে ১৪টি বছর ধরে দেশের মানুষের উপর অত্যাাচর নির্যাতনের ষ্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে এই সরকার। দেশের আলেম-্ওলামাদের মানুষ শ্রদ্ধা করে সম্মান করে। তার মানুষকে সু-পথে নেয়ার কথা বলে। তাদের নামে মিথ্যা মামলা করে কারাগারে অটক করে রেখেছে। শুুধু তাই না, তারা হুমকি দেয়, খেলাফত মজলিসের মতো অবস্থা হবে, হেফাজতের মতো অবস্থা হবে। হুমকি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। যদি আন্দোলনে যাই তাহলে তাহলে হেফাজতের মতো অবস্থা হবে আমাদের। মির্জা ফখরুল বলেন আমরা পরিস্কার করে বলতে চাই-এবার মানুষ জেগে উঠেছে কোন হুমকি ধমকি দিয়ে লাভ হবে না। এই মানুষ এবার ঘর থেকে বের হয়ে এসেছে আর ঘরে ফিরবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই, সেই লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকারকে আমরা ফিরিয়ে আনবো। আমাদের ভোটের অধিকারকে ফিরিয়ে নিবো, আমরা আমাদের সরকার আমরা তৈরী করতে চাই। জনগন তৈরী করতে চায়। আমরা ভোট আমি দিবো। যাকে খুশি তাকে দিবো। তিনি বলেন- দেশনেত্রী বেগম খালেদা দিয়ে সংবিধানে সন্নিবেশিত করেছিলেন নির্বাচন হবে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হবে না। যারা এর বিরোধীতা করবে, তাদের চিন্থিত করা হবে গণশত্রু হিসেবে। এটাই এখন সংকট উত্তরণে একমাত্র পথ। লড়াই শুরু হয়েছে, এই লড়াই আমাদের কে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। আরো শক্তিশালী আরও বেগমাব করতে হবে। সারা বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী গ্রেফতার শুরু করেছো তা বন্ধ করতে হবে। আর যদি একটি মানুষের মিথ্যা মামলা দেয়া হয়, মানুষ তা রুখে দিবে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের শ্লোগান এখন একটাই, ‘ট্র্যাক ব্যাক বাংলাদেশ’। আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যায়-অত্যাচার আর সহ্য করবো না। এ সরকারের হাতে দেশ, গণতন্ত্র কোনোটাই নিরাপদ নয়। আমরা চাই এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ। এরপর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হবে। তারা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন। তাদের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমরা জাতীয় সরকার গঠন করবো। নির্বাচনে যারাই অংশগ্রহণ করবেন তাদের সবাইকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবো আমরা। আর সেই জাতীয় সরকার রাষ্ট্রের মেরামতের কাজ শুরু করবে। সে মেরামত হলো বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করে সুশাসনের ব্যবস্থা করা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া, মানবাধিকার, সামাজিক মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরী করা হবে। সব মানুষের অধিকার প্রতিষ্ট করবো। যাতে মানুষ আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, ছেলেরা চাকুরী, মহিলাদের ক্ষমতায়ান ঘটে। সকল রাজনৈতিক দল ও মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন- ‘আসুন এখন আর বসে থাকার সময় নেই। সমস্ত রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান- আমরা সকলে এক হয়ে যেভাবে ৭১ সালে লড়াই করেছিলাম, সংগ্রাম করেছিলাম সেইভাবে এই ভয়াবহ দানব সরকারকে পরাজিত করে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করি। জনগণের রাষ্ট্র নির্মাণ করি।’ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপির যুগ্ম মহা সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা, ড. এনামুল হক চৌধুরী, সুপ্রিমকোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন জীবন, মৌলবিবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাসের রহমান, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গৌছ, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন মিলন, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, বিএনপির স্থানীয় সরকাট বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আক্তার, সিলেটের মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ূম জালালি পংকি, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী, এড. হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী প্রমুখ। সিলেটে শনিবার বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে আগের দিনই বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে সমাবেশস্থলে এসে অবস্থান নিয়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। গণসমাবেশে আসা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পথে পথে পুলিশ বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। তবে পুলিশের দাবি, শহরে ঢুকতে কাউকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক, সিলেট-তামাবিল আঞ্চলিক মহাসড়ক, সিলেট-গোলাপগঞ্জ সড়ক, সিলেট-ঢাকা সড়ক, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে সিলেট শহরে ঢুকতে হয়। সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটে আসা বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বলেন, এ ছয় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে। এসব সড়কে চলাচলকারী সিলেটমুখী ব্যক্তিদের উল্টো পথে ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ বলেন, পুলিশ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা এড়াতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়। তবে কাউকে সিলেট শহরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। সিলেট জেলা বিএনপির দুজন নেতার অভিযোগ, সিলেট-তামাবিল সড়কের দরবস্ত এলাকায় এবং সিলেট-গোলাপগঞ্জ সড়কের হেতিমগঞ্জ এলাকায় বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে পুলিশ ফিরিয়ে দেয়। তারা বাস ও অটোরিকশায় করে সিলেটে আসছিলেন। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ থেকে সুরমা নদী দিয়ে নৌকায় করে আসার পথে সিলেট নগরের কানিশাইল এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের শহরে ঢুকতে বাধা দেন সরকারি দলের নেতারা। সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের ৬টি থানা এলাকায় আজ ১২টি তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। কাল তা বেড়ে ১৯টি হয়। এদিকে সিলেট রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক কার্যালয়ের একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মহানগর ছাড়াও সিলেট বিভাগের ৪ জেলায় কমপক্ষে ২০টি তল্লাশি চৌকি বসানো ছিল। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী আমাদের মুঠোফোনে জানিয়েছেন, তাদের আসার পথে বিভিন্ন স্থানে বাধা দেওয়া হয়। তবে গাড়ি বদলে বাধাবিপত্তি ঠেলে অনেকে ঠিকই শহরে পৌঁছেছেন তারা অনেকে। পরিবহন ধর্মঘট: বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে গতকাল পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, অন্যটি সিলেট জেলা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এতে সকাল থেকে সিলেটজুড়ে গণপরিহন চলাচল ছিল বন্ধ। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন আমজনতা। গতকাল সকাল থেকে সিলেট নগরী কদমতল, হুমায়ুন রশিদচত্বও, ক্বিন বিজ্র সুরমা মার্কেট, সুবিদবাজার, লামাবাজার, টিলাগড়, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, তালতলা মোড় ঘুরে দেখা গেছে, জরুরী কাজে বের হওয়া সাধারণ যাত্রীরা বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাঝেমধ্যে দু-একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা, রিকশা চলাচল করলেও নগরীতে অন্য কোনো ধরনের যানবাহন একেবারেই চলতে দেখা যায়নি। ঘণ্টার পর ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা, কোনো ধরনের যানবাহন পায়নি। এছাড়া আঞ্চলিক সড়কেও পরিবহন ধর্মঘটে স্থবির। গাড়ি চলাচল নেই বললেই ছিল। র্ ঘটের কারণে যানবাহন না চলায় নগরীতে কেবল সমাবেশমুখী মানুষের জনস্রোতে বিএনপির গণসমাবেশের দিন দিনব্যাপী বাস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি। এই ধর্মঘট ডাকার পেছনে সরকারের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির নেতাদের। বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হতে যাতে বিড়ম্বনায় পড়েন, সে জন্যই এ ধর্মঘট ডাকা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির গণসমাবেশের আগে এভাবেই পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। ধর্মঘটের কারণে সকাল থেকে সব রুটে বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে ভোগান্তি পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এদিকে রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে ধর্মঘট ডাকায় অনেক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এক দিন ধর্মঘট ডাকা হলেও আগের দিন থেকেই বাস বন্ধ হয়ে আছে। রোজগার কমে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অনেক শ্রমিকরা। পরিবহন ধর্মঘটের কারনে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের সাথে সিলেটের যোগাযোগ সম্পূর্ণই বিছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সিলেট আলীয়া ময়দানে অবস্থান করেন। মাঠের চারপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারপরও সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা রাত্রি যাপন করেন। সেখানেই রান্না বান্না করে আয়োজন করা হয় খাবারের। -সূত্র: ইনকিলাব
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ