রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০ ২১
জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::
১৪ সেপ্টেম্বর ২০ ২১
৬:৫৪ অপরাহ্ণ

জগন্নাথপুরে মৎস্যজীবি পরিচয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি চান ভূক্তভোগীরা

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে সম্মানীয় ব্যক্তিদের মৎস্যজীবি তালিকায় নাম দিয়ে মানহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের হাছন ফাতেমাপুর গ্রামে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। জানাগেছে, বিগত ৬/৭ বছর আগে হাছন ফাতেমাপুর উত্তরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি সমিতি গঠন করা হয়।

এ সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন জলমহাল ইজারা নেয়া হয়। অথচ সমিতির অনেক সদস্য নিজেও জানেন না, তারা সদস্য আছেন। অবশেষে বিষয়টি জানাজানি হলে সমিতির সদস্য রুশন আলী ও ওয়াতির আলী প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। তারা সমিতি থেকে তাদের নাম কর্তন করার জন্য নানা ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাতেও কাজ হচ্ছে না। বারবার হেরে যাচ্ছেন রহস্যজনক কারণে। তারা মৎস্যজীবি নয়। তবুও কেন বা কার স্বার্থে তাদেরকে জোরপূর্বক মৎস্যজীবি বানানো হয়। সহসা মিলছে না এমন প্রশ্নের উত্তর। ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজেদুল ইসলামকে রুশন আলী ও ওয়াতির আলী সহ এলাকার লোকজন বিষয়টি জানান।

এ বিষয়ে স্থানীয় জাহান মিয়া বলেন, রুশন আলী ও ওয়াতির আলী এলাকার সম্মানীয় ব্যক্তি। তাদের নাম মৎস্যজীবি তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভূক্তভোগী রুশন আলী ও ওয়াতির আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নিজেও জানি কবে মৎস্যজীবি হয়ে গেলাম। হাছন ফাতেমাপুর গ্রাম আছে। তবে হাছন ফাতেমাপুর উত্তরপাড়া নামে কোন গ্রাম নেই। অথচ হাছন ফাতেমাপুর উত্তরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি হয়েছে। সমিতির অনেক সদস্য আমাদের মতো জানেন না, তারা যে সদস্য আছেন।

আমাদের অজান্তে সমিতি বানিয়ে একটি মহল জলমহাল ইজারা নিচ্ছে। তারা আরো জানান, আমাদের সন্তানেরা বিভিন্ন স্কুল-কলেজে লেখাপড়া করছে। মৎস্যজীবি তালিকায় আমাদের নাম থাকায় তারা সমাজে লজ্জাবোধ করছে। এতে আমাদের মানহানি হচ্ছে। তাই মৎস্যজীবি তালিকা থেকে আমাদের নাম কর্তন করার জন্য সুনামগঞ্জ নোটারি পাবলিক এর মাধ্যমে হলফনামা করেছি। জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেছি। বিভিন্ন তদন্ত কমিটিও হয়েছে। তবুও আমরা মৎস্যজীবি পরিচয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছি না। এ জন্য সরকারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু-হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

তবে রুশন আলী বলেন, আমার জানামতে আমাদের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য রফা মিয়া আমাকে সৌর বিদ্যুৎ দেয়ার কথা আমার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি নিয়েছিলেন। এখন হয়ে গেলাম মৎস্যজীবি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য রফা মিয়া জানান, রুশন আলী হাওরে মাছ ধরে। সে বলায় তার নাম মৎস্যজীবি তালিকায় দেয়া হয়। তবে হাছন ফাতেমাপুর উত্তরপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিপন মিয়া বলেন, রুশন আলী ও ওয়াতির আলী আমাদের সমিতির সদস্য ছিলেন। এখন তারা থাকতে চাইছেন না। আমরাও রাখতে চাই না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাছন ফাতেমাপুর উত্তরপাড়া নামে কোন গ্রাম নেই। গ্রামের উত্তর পাড়ে আমাদের জলমহাল থাকায় উত্তরপাড়া লাগানো হয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ