অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল):
৯:৫১ অপরাহ্ণ
৭ মার্চ, ১৯৭৬ : কেমন ছিলো সেই দিনটি?
৭ মার্চ এখন ৫১’য়। সংগত কারণেই সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় উদ্যাপিত হচ্ছে ৭ মার্চ। আর এবারের ৭ মার্চের ঠিক আগ দিয়ে মন্ত্রিসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি ৭ মার্চে অন্যরকম দ্যোতনা যোগ করেছে। ৭ মার্চে এই গৌরবকালে একটু ফিরে তাকানো যাক ১৯৭৬ সালের দিকে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে সে বছরও মার্চে এসেছিলো ৭। কেমন ছিলো সেই দিনটি? কীভাবে উদযাপিত হয়েছিলো ছিয়াত্তরের ৭ মার্চ?
আজ ৭ মার্চ যখন বাংলাদেশের জাতীয় দিবস আর ৭ মার্চের ভাষণ যখন একমাত্র ভাষণ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, তখন ঘুরে আসা যাক বঙ্গবন্ধুর শরীরি অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম ৭ মার্চে। সেদিন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল জিয়া। তিনি ছিলেন একাধারে সেনাপ্রধান আর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিয়াত্তরের ৭ মার্চে, ওই ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানেই আয়োজন করা হয়েছিলো একটি বিশাল ইসলামী জলসার। সামরিক শাসনের অধীনে দেশে সব রকম সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এই জলসার ব্যাপারে তা প্রযোজ্য হয়নি। হয়নি কারণ এর আয়োজকরা সবাই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য। সিরাত মাহফিল নামে আয়োজিত এই ইসলামী জলসায় সভাপতিত্ব করেন আজকের চিহ্নিত, দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন জিয়ার উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তোয়াব। সভা আলোকিত করে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি আর লিবীয় রাষ্ট্রদূতরা। সভায় রাজাকার সাঈদী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের ৮ মার্চ, ১৯৭৬ সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে এসব দাবির অন্যতম ছিলো বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ ঘোষণা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আর বেদাতী শহীদ মিনার ধ্বংস করা। জিয়ার সামরিক সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি তোয়াব এসব দাবির প্রতি তার সরকারের সমর্থনের ঘোষণা দেন তাঁর ভাষণে। এ সময় স্লোগন উঠে, ‘তোয়াব ভাই তোয়াব ভাই, চান তারা পতাকা চাই’।
আজ যখন আমরা আমাদের এগিয়ে চলা আর সুন্দর সময়গুলো উপভোগ করছি, পঞ্চাশ বছর আগের সেই অস্বস্তিকর স্মৃতিটুকু টেনে আনার উদ্দেশ্য আমার একটাই- তারা আছে, আছে ঘাপটি মেরে, কিন্তু আছে বহাল তবিয়তেই। তারা সুযোগ খুঁজছে আবারও ছোবল দেওয়ার। ইথারে এখন নষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এই সময়ে আমাদেরও আমাদের ভালোটা ভালোভাবে বুঝতে, শিখতে হবে যাতে আর কখনোই আমাদের আর কোনো ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নব্য কোনো জিয়া, তোয়াব বা সাঈদীর ঔদ্ধত্য গলধকরণ করতে না হয়।
লেখক: ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
আজ ৭ মার্চ যখন বাংলাদেশের জাতীয় দিবস আর ৭ মার্চের ভাষণ যখন একমাত্র ভাষণ হিসেবে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ, তখন ঘুরে আসা যাক বঙ্গবন্ধুর শরীরি অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম ৭ মার্চে। সেদিন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল জিয়া। তিনি ছিলেন একাধারে সেনাপ্রধান আর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। জিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিয়াত্তরের ৭ মার্চে, ওই ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানেই আয়োজন করা হয়েছিলো একটি বিশাল ইসলামী জলসার। সামরিক শাসনের অধীনে দেশে সব রকম সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এই জলসার ব্যাপারে তা প্রযোজ্য হয়নি। হয়নি কারণ এর আয়োজকরা সবাই ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় সদস্য। সিরাত মাহফিল নামে আয়োজিত এই ইসলামী জলসায় সভাপতিত্ব করেন আজকের চিহ্নিত, দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রেখেছিলেন জিয়ার উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এয়ার ভাইস মার্শাল এম জি তোয়াব। সভা আলোকিত করে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন পাকিস্তানি আর লিবীয় রাষ্ট্রদূতরা। সভায় রাজাকার সাঈদী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দৈনিক ইত্তেফাকের ৮ মার্চ, ১৯৭৬ সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে এসব দাবির অন্যতম ছিলো বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ ঘোষণা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত পরিবর্তন আর বেদাতী শহীদ মিনার ধ্বংস করা। জিয়ার সামরিক সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি তোয়াব এসব দাবির প্রতি তার সরকারের সমর্থনের ঘোষণা দেন তাঁর ভাষণে। এ সময় স্লোগন উঠে, ‘তোয়াব ভাই তোয়াব ভাই, চান তারা পতাকা চাই’।
আজ যখন আমরা আমাদের এগিয়ে চলা আর সুন্দর সময়গুলো উপভোগ করছি, পঞ্চাশ বছর আগের সেই অস্বস্তিকর স্মৃতিটুকু টেনে আনার উদ্দেশ্য আমার একটাই- তারা আছে, আছে ঘাপটি মেরে, কিন্তু আছে বহাল তবিয়তেই। তারা সুযোগ খুঁজছে আবারও ছোবল দেওয়ার। ইথারে এখন নষ্ট ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত। এই সময়ে আমাদেরও আমাদের ভালোটা ভালোভাবে বুঝতে, শিখতে হবে যাতে আর কখনোই আমাদের আর কোনো ৭ মার্চে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নব্য কোনো জিয়া, তোয়াব বা সাঈদীর ঔদ্ধত্য গলধকরণ করতে না হয়।
লেখক: ডিভিশন প্রধান, ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও সদস্য সচিব, সম্প্রীতি বাংলাদেশ
ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন
শেওলা-জকিগঞ্জ সড়কের কাজের মান নিশ্চিতের দাবি
পূজা ও শতহস্তে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ…
সিলেটে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও ডায়াবেটিস সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত
সুনামগঞ্জে ছেলের হাতে মা খু*ন
প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখায় জেলা সমাজসেবার সম্মাননা…
প্রতিদানের আশা না করে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিই…
সড়ক দুর্ঘট'না রোধে নিসচা সিলেট মহানগরের জনসচেতনতামূলক শিক্ষার্থী…
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি…
পূর্ব লন্ডনে যুক্তরাজ্য জিয়া মঞ্চের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি…
কমলগঞ্জে একটি দুটি নয় সড়কের পাশ থেকে ১৪টি…
গোলাপগঞ্জে বৈষম্যবি'রো'ধী মা'মলায় যুবলীগ নেতা ইমরুল গ্রে'প্তার
সিলেটে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন
৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
৪ বছর পর সিংহাসন হারালেন গোলাম কিবরিয়া !
ছাতকের গ্রামের বাড়ীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন শহীদ ডাঃ…
সিলেট আসা লন্ডনীরা ৫ ঘন্টা ধরে বাসে
বন্যায় বিপাকে শাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী
স্টুডেন্ট ভিসা সুখবর নয়, বিপদ
রায়হানের পরিবারের পাশে খন্দকার মুক্তাদির
সিলেটে ২৫ বছর পর হারানো ভূমি ফিরে পেল…
ব্যারিস্টার সুমন ও ইশরাতকে জরিমানা
সিলেটে আসছেন সার্জারী বিশেষজ্ঞ ডা: বিলকিস ফাতেমা
কবর থেকে লাশ তোলা হবে রায়হানের
সিলেটে আলোচনার কেন্দ্র আজাদ-রণজিৎ
আমাদের ফেসবুক পেইজ