বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০ ২১
বিপ্লব রায়, শাল্লা:
৬ এপ্রিল ২০ ২১
৫:৩০ অপরাহ্ণ

হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মাথায় হাত: শীলাবৃষ্টি ও গরম বাতাসের পর বেড়েছে পোকাড় উপদ্রব

গত রবিবার বিকেলে শুরু হঠাৎ দমকা গরম বাতাস। এই বাতাসের কারনে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিন থেকে চার ঘণ্টা স্থায়ী বাতাসে স্থানীয়দের মাঝে শুরু হয় এক ধরনের আতঙ্ক। তবে রাতে বাতাস কমার পর আতঙ্ক কমে গেলেও সকালে উঠে কৃষকের মাথায় হাত। সূর্যের প্রখরতা বাড়ার সাথে সাথে উঠতি বোরো ধানের শীষ শুকাতে শুরু করে ক্ষেতের পর ক্ষেত।

শুধু তাই নয় শীলা বৃষ্টিতেও ক্ষতির পরিমান বেড়েছে ফসলী জমির। প্রকৃতির লীলা কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে শীষ কাঠাল নামক এক পোকার উপদ্রব। হেক্টরের হেক্টর ফসলী জমি খেয়ে ফেলছে এই পোকা। ছায়ার হাওরের একটি অংশ ঘাতুয়া হাওর। এই হাওরে পোকার উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় কৃষক প্রবোধ সরকার ৯ একর জমি করেছেন। এর মধ্যে ৩ একর জমি শীষ কাঠাল নামক এই পোকায় খেয়ে ফেলেছে।


এছাড়া শীলাবৃষ্টি ও গরম বাতাসে অন্যান্য জমিগুলো ৫০ শতাংশ ক্ষতি হয়েছে বলে এই কৃষক জানান। এদিকে বাহাড়া ইউনিয়নের খলার হাওর ভেড়াডহর ছাগল নাইয়া, হবিবপুর ইউনিয়নের ভান্ডারবিল, উদগল হাওরেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ছায়ার হাওরের কৃষকদের। প্রবোধ সরকার আরো জানান, গত রবিবার বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধু গরম বাতাস ছিল। কোনো রকম ঝড় বৃষ্টি ছিল না।

বাতাসটা অসহ্য মনে হচ্ছিলো। সকালে রোদ ওঠার পর হাওরে গিয়ে দেখি থোড় আসা ধান মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে। আমারা সংসার চালাবো কী করে? বেশি ফলনের জন্য হাইব্রিড জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এখন সর্বনাশ হয়ে গেছে। বাতাসটি আমরা বুঝতে পারি নাই। জীবনেও এমন গরম বাতাস দেখি নাই। সকালে উঠে দেখি ক্ষেতের ধান মরে গেছে। আমরা কী খেয়ে বাঁচবো। ঋণ করে গিরস্থি করেছি।

এখন কী করে ঋণ দেব? কীভাবে সারা বছর স্ত্রী, সন্তানের ভরণ-পোষণ করবো? কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলার হাওরাঞ্চলে উঠতি বোরো হাইব্রিড জাতের ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গরম দমকা বাতাসে উঠতি ফসলের শিষ শুকিয়ে যাচ্ছে। পুরো ক্ষেতে ধানের শিষ মরে শুকিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে শীষ কাঠাল নামক পোকায় ৫০ হেক্টর জমি জমি আক্রান্ত হয়েছে।

তবে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করে ৪৫ হেক্টর জমি পোকাড় আক্রমন থেকে দমন করা হয়েছে। আর গত রবিবারের গরম বাতাসে ৩৫ ভাগ ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে। বিষয়টি শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মবিউজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত করে বলেন, গরম বাতাসে হাওরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমাদের মাঠকর্মীরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। তবে লোকবল সংকট থাকায় শতভাগ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ১২ জন মাঠকর্মী প্রয়োজন। এরমধ্যে আছে ৪জন। তাই লোকবল সংকট থাকায় পরামর্শ প্রদানে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন শাল্লায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। সকল এলাকায় পোকার আক্রমণ নেই। যেখানে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। সেখানকার কৃষকদের বিকালে সোনালী মিস নামের কীটনাশক ১০ লিটার পানির সঙ্গে ১০ মিলি মিশিয়ে অথবা মার্শাল নাইট্রো ১০ লিটার পানির সঙ্গে ২০ মিলি মিশিয়ে ছিটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ