সোমবার, জুলাই ২২, ২০ ২৪
বিজ্ঞপ্তি::
২৪ মে ২০ ২৩
৫:৫০ অপরাহ্ণ

চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে উল্টো পুলিশের মামলায় আটক জালিয়াত চক্রের সদস্য সবুজ

দক্ষিণ সুরমায় পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় ভূমি জালিয়াত চক্রের সক্রিয় সদস্য সবুজ আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর লালাদিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা এডভোকেট আজাদের বাসা থেকে সবুজকে গ্রেফতার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।

সে বারখলা ১নং রোডের ৩১নং বাসার বাবুল মিয়ার পুত্র। তার বিরুদ্ধে ভূমি দখলসহ নানা অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ভূয়া চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত না হওয়ায় উল্টো সে পুলিশের মামলায় আসামী হয়ে পলাতক ছিল। ফলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে লালাদিঘীরপাড় থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই শেখ মোঃ মিজানুর রহমান জানান, “আটক সবুজ আহমদ গত ২০ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি মামলা (নং ০৯) দায়ের করে। এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নতুন পাতরকুল গ্রামের মোঃ সামছুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক নগরীর লামাবাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ লতিফুর রহমান, একই এলাকার ইব্রাহিম এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী লামাবাজার লতিফুর রহমানের ভাতিজা ছাবের রহমানকে।

এই মামলাটি তদন্ত করতে গিয়ে সত্যতা না পেয়ে গত ১০ মে আদালতে চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।” প্রতিবেদনে এই মামলায় আসামীদের অব্যাহতি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়। পরে বাদী সবুজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন এসআই শেখ মোঃ মিজানুর রহমান। থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে এসআই শেখ মোঃ মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, লতিফুর রহমানের আপন ভাতিজা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ছাবের রহমান তাঁর জায়গা জমি দেখাশোনা করতেন।

সবুজের মামলায় এই ছাবের রহমানকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ছাবের রহমান আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দীতে সাবের স্বীকার করে আর্থিক অভাব অনটনের কারনে সে সবুজের যোগসাজশে জাল অপ্রত্যাহারযোগ্য একটি পাওয়ার অব এটর্নি দলিল সৃজন করে। যা তার চাচা লতিফুর রহমানের পরিবর্তনে অন্য এক লোককে লতিফুর রহমান সাজিয়ে এই কাজটি করে।

উক্ত কাজের জন্য সবুজ তাকে নগদ আড়াই লক্ষ টাকা ও ১৫ লক্ষ টাকার একটি চেক দেয়। যা ছাবের রহমানের জবানবন্ধেিত পুলিশ উদ্ধার করে। ছাবের রহমান তার সহযোগী সবুজকে সাথে নিয়ে লতিফুর রহমানের জন্মনিবন্ধন, ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্টের নাম্বার ইত্যাদি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জনৈক ব্যক্তিকে আমমোক্তারনামা তৈরি করেন। পরে দক্ষিণ সুরমা মমিনখলা মৌজার জেএল নং এসএ ১১১, বিএস ৭৮, এসএ ছাপা খতিয়ান ৩৮৮ বিএস ৮৪৫ খতিয়ানের এসএ দাগ ৩০২ ও বিএস ৮১৬নং দাগের ৭৩ শতক ২৮ পয়েন্ট জমি আটক জালিয়াত চক্রের সদস্য সবুজ আহমদ নিজের নামে দলিল সম্পাদন করেন।

সবুজের মূল বাড়ি লাউয়াই উম্মরকুল গ্রামে। বারখলা তার শ্বশুড়বাড়ি। উক্ত জাল দলিলের সাক্ষি হিসেবে সবুজ আহমদের ভাগ্না জনি আহমদের নাম উল্লেখ করলেও তার পিতা মাতার নাম এবং এলাকা গোপন রাখে৷ প্রকৃত পক্ষে তার পিতার নাম লিলু মিয়া সে বারখলা গ্রামের বাসিন্দা৷ বর্তমানে জনি পলাতক। সবুজ ও ছাবের ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি সিলেট সদর ভূমি অফিস ৪৭২নং জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে এই ৭৫ শতক ভূমি পৃথক নামজারি করে নেয়।

এ অফিসের কিছু অসাদু কর্মকর্তার সহায়তায় জাল আমমোক্তারনামা দিয়ে ২৬৫০/২০১৯ দলিলের মাধ্যমে ১৬৬২ খতিয়ানের ৩০২ দাগে ১৬ শতক, ৭৭৯৯৫/১৯ দলিল মূলে ৯ শতকসহ মোট ২৫ শতক ভূমি জাল নামজারি করে নয়। পরবর্তীতে সবুজ আহমদ এই ২৫ শতক ভূমি বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি করে পুরো অর্থ আত্বসাৎ করে নেয়। যেকারনে উল্টো পুলিশ বাদী হয়ে সবুজ ও তার সহযোগীদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। আটক সবুজকে গতকাল (২৪মে) আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ