শুক্রবার, ডিসেম্বর ২, ২০ ২২
স্টাফ রিপোর্ট::
২৬ সেপ্টেম্বর ২০ ২২
৭:৩৭ অপরাহ্ণ

জকিগঞ্জে সরকারি রাস্তার পর বাড়ির জায়গা দখল করতে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

সিলেটের জকিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়ির জায়গা দখল, ভাংচুর, লুটপাট, মারধর ও গাছ কর্তনকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন প্রবাসী শাহীন আহমদ। উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ইলাবাজ গ্রামের মৃত ইমাদ উদ্দিনের ছেলে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী সোমবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, সরকারি রাস্তা দখল করার পর গ্রামের একটি দাঙ্গাবাজ চক্র এবার তার বাড়ির জায়গা দখলে নেমেছে। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ৫ সেপ্টেম্বর ভোররাতে অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে শাহীন আহমদের বাড়িতে প্রতিপক্ষ হোসেন আহমদ, তার চাচাতো ভাই শহিদ আহমদ ও তাদের সহযোগীদের নেতৃত্বে শতাধিক লোক বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা দা, কুড়াল, করাত, লোহার রড, গ্রান্ডার মেশিন, লাঠিসোটা ইত্যাদি নিয়ে বিভিন্ন জাতের ২৮৪টি গাছ কর্তন এবং পাকা রান্না ঘর গুড়িয়ে দেয়। দরজা জনালা ভাঙচুর করে। এতে প্রায় দশ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

বাধা দিতে গেলে তার বৃদ্ধ মা হানুফা বেগম ও ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাহিদা ও ভাতিজা খালেদকে মারধর করে তারা। ৯৯৯ নম্বরে কল করার দেড় ঘন্টা পর জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলেও তারা ছিল নিরব। অনেককে ঘটনাস্থলে পেয়েও নিষেধ বা আটক করেনি পুলিশ। তাদের তান্ডবলীলার কিছু দৃশ্য বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড রয়েছে। বক্তব্যে শাহীন আহমদ উল্লেখ করেন, ওই দিন রাতে তিনি বাদি হয়ে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু পুলিশ এজাহার পরিবর্তন করে। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। উল্টো তিনদিন পর তাদের বিরুদ্ধে একই ধারায় পাল্টা মামলা রেকর্ড করে পুলিশ।

হোসাইন আহমদ ও তার স্বজনরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তা দখল ও সেখানকার গাছ কর্তন করে আসছে উল্লেখ করে শাহীন আহমদ জানান, ইলাবাদ মৌজার জেএল-১১০, খতিয়ান-১, এসএ দাগ নং-৮৫, বিএস দাগ-১৫০৭, ১৫১০, ১৪৫১ এর প্রায় ৫২ শতক সরকারি রাস্তারকম ভূমি রয়েছে। পাঠানচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামন থেকে রাস্তাটি শুরু হয়েছে। গ্রামের লোকজন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন। প্রতিপক্ষ তাদের বাড়ির পার্শবর্তী রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও দখল করে তাদের বাড়ির অংশ করে সংযুক্ত করে ফেলেছে। সরকারি রাস্তার প্রায় ৬ লাখ টাকার গাছ কেটে নিয়েছে হোসেন ও তার সহযোগীরা। সরকারি রাস্তা বন্ধ ও গাছ কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গ্রামের লোকমান আহমদ নামের এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর দরখাস্ত করেন।

এ ছাড়া তিনি একই বছরে স্থানীয় সুলতানপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের কাছে ও পুলিশ সুপার বরাবরে একই বিষয়ে অভিযোগ দেন। এখনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ প্রসঙ্গে বলা হয়, শাহীন আহমদের খালা শরিফা বেগমের কাছ থেকে ২০২১ সালে ৮ শতক জায়গা কিনেছে বলে দাবি করেন হোসেনরা। কিন্তু বাড়ির ইজমালি ৬৬ শতক জায়গার মধ্যে যে ৮ শতক জায়গা তারা ক্রয় করেছে বলে দাবি করে তা কোন অংশে তা উল্লেখ নেই। ইজমালি সম্পত্তির কোনো বাটোয়ারা হয়নি। তা নিয়ে শফি মামলা চলছে।

এ অবস্থায় কোন আইনের বলে হোসেন জোরপূর্বক শতাধিক লোক নিয়ে হামলা ও ভাংচুর করে জায়গা দখল করতে আসে। এ জায়গার বিরোধ ছাড়াও হোসাইনদের দাদা সিকন্দর আলী ১ শতক জায়গা ৫৬ সালের রেকর্ডে কৌশলে তার নামে করিয়ে নেন। ১৯৯১ সালে আবার সেই জায়গার মধ্যে আধা শতক শাহীনের পিতার কাছে বিক্রি করেন। আবার সেই আধাশতক জায়গা (দাগ নং-১৫১৯) বিএস রেকর্ডে ২৯ জনের নামে রেকর্ড করিয়ে নেয় হোসেন আহমদের পিতা ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি জানার পর রেকর্ড সংশোধনের জন্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন শাহীন।

এজকন প্রবাসী হিসেবে শাহীন আহমদ পুলিশ ও জেলা প্রশাসনে আবেদন করেছেন উল্লেখ করে জানান, সরকারি রাস্তা দখল ও যাতায়াত বন্ধ করে রাখার পর অন্যায় ও গায়ের জোরে তার বসতবাড়ির অংশ বিশেষ দখল করে রাস্তা বানাতে চায় হোসেন। সেজন্য দলবল নিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। রাজনৈতিক মদদে এসব দখলবাজ অপকর্ম করছে দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলাটি দ্রুত বিচার আইনে তদন্তের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ