বুধবার, এপ্রিল ২১, ২০ ২১
ডেস্ক নিউজ::
৭ এপ্রিল ২০ ২১
৫:০ ৭ অপরাহ্ণ

মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে বন্দি রেখে বাড়ি দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

নগরীর মজুমদার পাড়ায়(ঘাসিটুলা) পর্যায়ক্রমে চারটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে বন্দি রেখে বাড়ি দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেেছন মজুমদারপাড়ার (ঘাসিটুলা) ৪ নম্বর সড়কের ফয়সল মঞ্জিলের বাসিন্দা মৃত শফিকুল হকের পুত্র ফয়সল আহমদ।

তিনি আজ বুধবার (০৭এপ্রিল ২০২১) সিলেট প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তার সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগী দক্ষিণ সুরমার গোপশহর গ্রামের তফজ্জুল আলীর পুত্র অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। অহিদুল ইসলাম তার ব্যবসার উন্নতি দেখে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে উঠে এবং তাকে নিঃস্ব করতে বাড়ি দখলের পায়তারা শুরু করে। ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কয়েকটি মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে তাকে জেল জুলুমসহ নানাভাবে হয়রানি করে করছে।

তারা ফয়সল আহমদের পরিবারের সদস্যদের গুম-খুনের হুমকিসহ নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে তার পরিবারের স্কুল- মাদরাসা পড়–য়া সন্তানদের লেখাপড়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব ষড়ষন্ত্র থেকে রেহাই পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান ফয়সল আহমদ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফয়সল আহমদ আরো বলেন ২০২০ সালের ৩ জুন মরহুম আব্দুল মালিক (মায়া মিয়া) ও শায়না বেগম ওরফে শাহানারা বেগমের পুত্র নাসির উদ্দিনের কাছ থেকে ৩১৪১/২০ নং রেজিস্ট্রি দলিলমূলে বাগবাড়ী মৌজায় ২০ শতক জায়গা ক্রয় করেন।

যার জেএল নং ৯০, এসএ খতিয়ান ৫৭, বিএস খতিয়ান ১২৪৮৩, ডিপি খতিয়ান নং ৮৭৬, নামজারী খতিয়ান নং ৩৪৪৩, এসএ দাগ নং ১৭৬৭, বিএস দাগ নং ১২৫৩৫। উক্ত জায়গা ক্রয় করার পর সেখানে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কিন্তু মামলাবাজ ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক দক্ষিণ সুরমার গোপশহর গ্রামের তফজ্জুলআলীর পুত্র অহিদুল ইসলাম ও তার ভাই সাদিকুল ইসলাম, সহযোগী নগরীর মুন্সিপাড়ার শাহাজাহান, শাহাজানের স্ত্রী জাহানারা বেগম ও তাদের পুত্র তামিম, পাঠানটুলার বাসিন্দা ফজুল মিয়া, ফজলু মিয়ার স্ত্রী রাহেলা বেগম তার ক্রয়কৃত জায়গা দখল করতে নানা অপতৎপরতা শুরু করে।

এ চক্র তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা, জালালাবাদ ও কোতোয়ালি মডেল থানা এবং আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে পরপর চারটি মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার অভিযোগের সাথে কোন ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু সবকটি মামলায় তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি সব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি বলেন অহিদুল ইসলামের সাথে প্রায় দু’বছর ভূমি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসা করেন। ২০১৯ সালে তার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অহিদুল বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের জমি বিক্রি করতে থাকে। অনেকের কাছ থেকে কিছু টাকা দিয়ে বায়নামা করে পরবর্তীতে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা বায়নামায় উল্লেখ করেন। এমন অভিযোগ পেয়ে বাধ্য হয়ে তার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এরপর থেকে অহিদুল ও তার সহযোগীরা তার উপর প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। গত বছরের ৪ জুলাই দক্ষিণ সুরমা থানায় তাকেসহ নগরীর কলাপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল মালেককে আসামি করে প্রতারণার মামলা দায়ের করে। অহিদুল তার ব্যবসায়ীক সহযোগী আব্দুল মালেকের শাশুড়ির জায়গা ক্রয় করলেও কিছু টাকা পরে পরিশোধ করবে বলে জানায়।

কিন্তু পরে টাকা না দিয়ে উল্টো এ মামলায় তার সাথে আব্দুল মালেককে আসামি করে। এ মামলায় পুলিশ তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে। তাদের জামিন বাতিলের জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১০৭ ধারায় আরেকটি মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তাকে ও অজ্ঞাতনামা ৪ জনকে আসামি করে জালালাবাদ থানায় অহিদুল আরেকটি মামলা দায়ের করে। এ মামলায় কারাগারে থাকাবস্থায় অহিদুলের ইন্ধনে শাহাজাহানের স্ত্রী জাহানারা আক্তার বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আরেকটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় তাকেসহ ভাই মুক্তা আহমদ ও ভাতিজা কামরান আহমদসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। তিনি এসব মিথ্যাও যড়ষন্ত্রমুলক মামলায় কারাভোগ করেন। সব মামলায় জামিনে বেরিয়ে আসার পর গত ৪ এপ্রিল বিকেলে মজুমদারাপাড়া নাঈম সরকারের দোকানের সামনে অহিদুল ও তার সহযোগীরা তাকে প্রাণে মারতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি ৫ এপ্রিল সিলেটের মাননীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে বিবিধ মামলা দায়ের করেন।এর আগে তাদের বসতবাড়ি দখলচেষ্টা ও হুমকির ঘটনায় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিবিধ মামলা দায়ের করেন। তা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার ব্যবসায়িক সহযোগী আব্দুল মালেক ও ভাতিজা ইমরান হোসেন।

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ